মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
অপরাধ ২৩ জুন ২০২৬

ভারত থেকে মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকের টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেখিয়ে বিজিবির হাতে তুলে দেন নেজাম

বাগানবাজার গ্রাফ নিউজ ডেস্ক

আধারমানিক সীমান্ত এলাকায় বিজিবির হাতে এক ভারতীয় যুবক আটক হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামগড় ৪৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রামগড় ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভুজপুরের আধারমানিক সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় আধারমানিক বিওপির একটি টহল দল পুটন মোল্লা (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক বলে পরিচয় দেন।

আটক যুবকের বাড়ি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাবরুম মহকুমার সীমান্তবর্তী রামেন্দ্রনগর এলাকায়। তার বাবার নাম বাদল মোল্লা।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, পুটন মোল্লা গত ১৯ জুন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের তারকাঁটার নিচ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বাগানবাজার ইউনিয়নের আধারমানিক গ্রামে অবস্থান করেন। পুটন মোল্লা মূলত একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি আধারমানিক সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে ভারত থেকে মাদক সরবরাহ করতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আবু মেম্বারের ভাগিনা সাইফুল, নেজাম, বাবলুসহ আরও অনেকের কাছে তার জনপ্রতি ৩ লাখ টাকারও বেশি পাওনা ছিল। এর মধ্যে সাইফুলের কাছে তার পাওনা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এই টাকার বিনিময়ে সাইফুল তাকে ইয়াবা দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২২ জুন সোমবার নেজাম, সাইফুল, সুমনসহ বাংলাবাজারের একটি সংঘবদ্ধ দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই অমানবিকভাবে মারধর করে। পরে তাকে দিয়ে ভিডিওতে বিভিন্ন স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, পুটনের সঙ্গে এই দলটির দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন ছিল। যেহেতু এই সীমান্ত এলাকা দিয়ে তিনি মাদক সরবরাহ করতেন, তাই তিনি এর আগেও একাধিকবার এসে টাকা সংগ্রহ করে গেছেন। তবে এবার ঘটনাটি ভিন্ন ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিন তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে আড্ডা দেন এবং জানান যে নেজাম, সাইফুল, বাবলু, সুমনসহ আরও কয়েকজনের কাছে তার দীর্ঘদিন ধরে কিছু টাকা আটকে আছে।

তাদের দাবি, ওই পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেখিয়েই তাকে ডেকে আনা হয় এবং পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গ্রামের অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের অধিকাংশই পুটন মোল্লার মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ করত। তাদের মতে, যদি মাদকবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে শুধু পুটনকে নয়, তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

স্থানীয়রা আরও জানান, জসিম মেম্বার দুই দিন আগে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে শুধু পুটনকে আটক করানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নেজামদের এক ধরনের অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা, যা স্থানীয়রা বুঝতে পেরেছে।


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)

মতামত

লগইন করুন
নিভয়ে মতামত দিন — আপনার পরিচয় সুরক্ষিত। মতামতে শুধু আপনার ছদ্মনাম প্রদর্শিত হয়, প্রকৃত নাম কখনো প্রকাশ পাবে না।
User67 ৭ নং ওয়ার্ড ৬ দিন আগে

অনেক বার ছেলে টি মাদক চোরাচালান নিয়ে বাংলাদেশে আসে। এবং ঐদিন তাকে পরিকল্পিত ভাবে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।