গত ১৬ জুন ২০২৬ ইং বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন নয়নকে মারধরের অভিযোগ উঠে স্থানীয় যুবদল নেতা লোকমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে।
কিন্তু ঘটনাটি ঘটার ৭ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে থানা কিংবা ইউনিয়ন যুবদলের পক্ষ থেকেও কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের নিকট থেকে জানা যায়, বিষয়টি সরওয়ার আলমগীরকে অবগত করা হয়েছে। তিনি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, লোকমানের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তাদের মতে, লোকমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই চলেন। যারা তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, তারাই আজ নীরব।
বাগানবাজার বিএনপির অনেক কর্মী মনে করেন, যেখানে দলীয় সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না, সেখানে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বাগানবাজারের রাজনীতি বর্তমানে লোকমান-মহিউদ্দিন গ্রুপের প্রভাবের বাইরে নয়।
একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, থানা যুবদলের সাধারন সম্পাদক একরামের সঙ্গে লোকমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে থানা ও ইউনিয়ন যুবদলের প্রভাবশালী একটি অংশের নিয়ন্ত্রণেই বর্তমানে বাগানবাজারের রাজনৈতিক পরিবেশ পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন অনেক নেতাকর্মী।
জানা যায়, গত ঈদে লোকমান থানা যুবদলের সভাপতি একরামকে একটি গরু উপহার দেন। স্থানীয়দের দাবি, গরু বাজারের বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ওই গরুর মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগ সরওয়ার আলমগীরকে ঘিরেও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা। তাদের দাবি, বড় কোনো অনুষ্ঠান বা মেজবানের আয়োজন হলে মহিউদ্দিনের পক্ষ থেকে গরু উপহার দেওয়া হয়। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত একটি মেজবানেও মহিউদ্দিন একটি গরু উপহার দিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, লোকমান যে কাজটি করেছেন, সেটি সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তার উচ্ছৃঙ্খলতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে দল থেকে ত্যাগী ও আদর্শিক কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে।
তাদের ভাষ্যমতে, লোকমান ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড এখন আর গোপন কিছু নয়; এগুলো স্থানীয়ভাবে ওপেন সিক্রেট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ার সুযোগ নিয়ে তারা দিন দিন একটি প্রভাবশালী বাহিনী গড়ে তুলছে। সময়মতো এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাগানবাজারে বিএনপির নেতৃত্ব সংকটে পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় আরেক বিএনপি কর্মী বলেন, যেখানে ইউনিয়ন বিএনপির কোনো বিবৃতি নেই, কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেই, সেখানেই বোঝা যায় নয়নের মতো ত্যাগী কর্মীদের চেয়ে লোকমানের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই বেশি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তার মতে, বর্তমানে দলের নিয়ন্ত্রণ সুসংগঠিত নয়; যার প্রভাব বেশি, তার প্রভাব-প্রতিপত্তিও বেশি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয় অনেকেই এসব ঘটনাকে বাগানবাজারের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সরওয়ার আলমগীরের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত মহিউদ্দিনকে আগামীর চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, প্রভাব বিস্তার এবং অনুসারী গোষ্ঠী তৈরির প্রবণতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী দিনে বাগানবাজারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
যতদিন মহিউদ্দিন লোকমানকে ধমানো যাবে না, ততদিন বিএনপিতে কোনো নেতৃত্ব তৈরি হবে না। দল নিরব মানে বুঝতে হবে তাহারা রুস্তম কিংবা সাজু হতে চাচ্ছে। এই বাগানবাজার দ্বিতীয় কোনো রুস্তম বা সাজুর জন্ম হতে দেওয়া যাবে না।
লোকমান ও মহিনউদ্দিন পুরোপুরি রুস্তমের কার্বন কপি।